রাত ৪:১২
১৮ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
২রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

আজ নোয়াখালীর ১৩ ইউনিয়নে নির্বাচন, প্রচারণায় মুখর ছিল চরাঞ্চলের জনপদ।

শাহাদাৎ বাবু নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি :নোয়াখালীর সুবর্ণচর ও হাতিয়া উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে আজ সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১৩টির মধ্যে সুবর্ণচরে ৬টি ও হাতিয়া উপজেলায় ৭টি ইউনিয়নে নির্বাচন হবে। নির্বাচন উপলক্ষে প্রচারণা, মাইকিং এবং প্রার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছিল চরাঞ্চলের জনপদ। চারিদিকে শুধু নির্বাচনী আমেজ।

চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন। এলাকার মানুষের কাছে ভোট উৎসবে পরিণত হয়েছে। কিন্তু, নির্বাচনে সহিংসতা ও সংঘর্ষের ব্যাপক আশঙ্কা করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভোটাররা।

নোয়াখালী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত মার্চে সুবর্ণচর উপজেলার ৬টি ও হাতিয়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। ভোট গ্রহণের তারিখ ছিল ১১ এপ্রিল। তবে, করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে সরকার।

এরপর গত ২ সেপ্টেম্বর নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়। তখন থেকেই প্রার্থীরা জোর প্রচারণা চালিয়ে গেছেন। হাট-বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রার্থীদের নির্বাচনী পোস্টার ঝুলছে। প্রার্থীরা দিয়েছেন নানান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি।

উপজেলার চরবাটা, চরওয়পদা, চরআমান উল্ল্যাহ, চরক্লার্ক, পূর্বচরবাটা ও মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে আজ সোমবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই ৬টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ২৬ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করছেন।

অন্যদিকে হাতিয়া উপজেলার তমরদ্দি, বুড়িরচর, সোনাদিয়া, চরকিং, চরঈশ্বর, জাহাজমারা ও নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ভোটে ৩৩ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।

এই নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও সাধারণ সদস্য পদে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাদের বেশির ভাগ প্রার্থী সরকার দলীয়। চেয়ারম্যান প্রার্থীরা অনেকেই নৌকার টিকেট না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। এ কারণে নির্বাচনে সংঘর্ষ ও সহিংসতার আশঙ্কা করছেন প্রার্থী ও ভোটাররা।

গত বুধবার রাতে সুবর্ণচর উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নের আল-আমিন বাজার ও চরকাজি মোখলেছ এলাকায় নৌকার প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর (চশমা প্রতীক) সমর্থকদের মধ্যে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের ৬ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় নৌকার প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়।

এদিকে গত ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় হাতিয়া উপজেলার ৯নং বুড়িরচর ইউনিয়নের দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয় সংঘর্ষে সাতজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায় এরমধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে নোয়াখালী সদর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো হয়। দ্বিতীয় দফা মুখোমুখি সংঘর্ষের প্রস্তুতিকালে পুলিশ এসে কঠোরভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

সুবর্ণচর উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মনির হোসেন ওরফে মনির চেয়ারম্যান বাংলাদেশ সমাচার কে বলেন, আজকের নির্বাচনের যেকোনো সময়ে বহিরাগতদের ভোট কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা আছে।

এ প্রসঙ্গে নোয়াখালী সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রবিউল আলম বলেন, ভোট গ্রহণের সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত নির্বাচনে বড় ধরনের সহিংসতার কোনো আশঙ্কা আমি দেখছি না। বিচ্ছিন্ন দু’একটি ঘটনা ছাড়া নির্বাচনের পরিবেশ ঠিক ছিল এবং আছে।’

নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ খান বলেন, ‘সুবর্ণচর ও হাতিয়া উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশে ভোট গ্রহণ করা হবে। নির্বাচনে কোনো প্রকার অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। যে কেন্দ্রে গোলযোগ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হবে তাৎক্ষণিক সেখানে ভোট গ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া হবে। কেন্দ্রের ভিতরে ও বাইরে পর্যাপ্ত পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, আনসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন থাকবে। তাই ভোটের দিন বিশৃঙ্খলার সম্ভাবনা নেই।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক বাংলাদেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের অংশগ্রহণ না থাকায় এই নির্বাচনকে একপেশে নির্বাচন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপি নেতারা। বিএনপি’র প্রার্থীদের অংশগ্রহণ না থাকায় এবারের নির্বাচনে প্রশাসন কঠোরভাবে নিরপেক্ষতা বজায় রাখবে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

500FansLike
700FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles