রাত ৮:২৭
৫ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
২১শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

যশোরসহ ৬ জেলায় করোনায় মৃত্যু ১৮

যশোরসহ খুলনা বিভাগে করোনা পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। বরং পরিস্থিতি আরও খারাপ অবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় যশোরসহ ছয় জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে যশোরে তিনজন, খুলনায় পাঁচজন, বাগেরহাটে চারজন, মেহেরপুরে তিনজন, কুষ্টিয়ায় দু’জন এবং সাতক্ষীরায় একজন মারা গেছেন।

যশোর

যশোরে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় তিনজনের মৃত্যু এবং নতুন করে ৬১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন জানান, শনিবার যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনোম সেন্টারে একশ’ ২৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া, ৭৩ জনের অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় ২৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে হাসপাতালে। এ পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা আট হাজার ৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। সুস্থ হয়েছেন ছয় হাজার চয়শ’ ৭৯ জন। মৃত্যু হয়েছে ৮৮ জনের।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আরিফ আহমেদ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালের রেডজোনে দু’জন ও ইয়োলোজোনে একজনের মৃত্যু হয়েছে। যারা মারা গেছেন তারা হচ্ছে, যশোর শহরতলির ঝুমঝুমপুর এলাকার সুমি খাতুন (১৪), শার্শার রঘুনাথপুর গ্রামের রফিউদ্দীন (৭০) ও মহেশপুর উপজেলার পুরন্দরপুর গ্রামের মকছেদুল ইসলাম (৪৮)।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ১০ জুন রফিউদ্দীন ও সুমি হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরের দিন শনাক্ত হয় করোনা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোরে রফিউদ্দীন ও সকালে সুমির মৃত্যু হয়। অপরদিকে, ১১ জুন করোনা উপসর্গ নিয়ে মকসেদুল হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার তার মৃত্যু হয়।

যশোর পৌরসভা থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, শনিবার নয়টি ওয়ার্ডে ১৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত পৌর এলাকায় আটশ’ ৪১ জনের করোনা শনাক্ত হয়।

এদিকে, যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, করোনার উপসর্গ নিয়ে ইয়োলোজোনে একদিনে ২১ জন ভর্তি হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে একদিনে এটি সর্বোচ্চ ভর্তির সংখ্যা। এ ওয়ার্ডে ১৯ বেডের বিপরীতে ৪২ রোগী ভর্তি রয়েছেন। এদের মধ্যে পুরুষের ১০ টি বেডের বিপরীতে ২৯ জন ও নারীদের নয়টি বেড়ের বিপরীতে ১৩ জন ভর্তি আছেন। এই ওয়ার্ডে মেঝেতেও জায়গা নেই। ফলে, করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হিমশিম খেতে হচ্ছে। করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডে ওষুধের দোকান ব্যতীত অন্য কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা না রাখার ঘোষণা দেয়া হয়। একইসাথে অপ্রয়োজনে মানুষকে যত্রতত্র ঘোরাফেরা নিষিদ্ধ করে প্রশাসন। যদিও মানুষ অনেকটাই অসেচতনভাবে ঘোরাফেরা ও কেনাকাটা করছে।

সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন জানান, যশোরে করোনা সংক্রমণের হার গত কয়েকদিন ধরে বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় প্রত্যেকের মাস্ক পরিধান করা জরুরি। একইসাথে যেকোনো ধরনের উপসর্গ দেখামাত্র চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

বাগেরহাট

বাগেরহাটে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নারীসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। করোনাভাইরাসের প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউ মিলে এ পর্যন্ত মোট ৫৫ জনের মৃত্যু হল বলে বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. কে এম হুমায়ুন কবির জানান।
মৃত চারজনের মধ্যে বাগেরহাট সদরের একজন, মোংলা উপজেলার দু’জন এবং মোরেলগঞ্জের একজন। গত ২৪ ঘণ্টায় বাগেরহাট জেলায় নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে আরও ছয়জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

সিভিল সার্জন আরও বলেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরটি পিসিআর ল্যাবে ২১টি নমুনা পরীক্ষায় তাদের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। জেলায় সংক্রমণের হার ৩০ শতাংশের কম। তবে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা জেলার মোংলা উপজেলায় সরকারি ছুটির দিন শুক্রবার র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা হয়নি।
এদিকে, মোংলা উপজেলায় প্রশাসনের আরোপ করা কঠোর বিধিনিষেধ ঢিলেঢালাভাবে চলছে। মোংলা পৌরসভা এলাকায় দোকানপাট বন্ধ থাকলেও সাধারণ মানুষ নানা অজুহাতে বাইরে ঘোরাফেরা করছে। আগামী ১৬ জুন পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ চলবে।
খুলনা

খুলনায় করোনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এছাড়া আইসিইউতে রয়েছেন ১৩ জন।

শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার।

তিনি সাংবাদিকদের জানান, গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে একজন করোনা আক্রান্ত হয়ে এবং চারজন উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়া হাসপাতালে সকাল ৮ টা পর্যন্ত ১৩১ জন রোগী ভর্তি ছিল। যার মধ্যে রেডজোনে ৬৫ জন, ইয়ালোজোনে ২১ জন, এইচডিইউতে ৩২ জন এবং আইসিইউতে ১৩ জন চিকিৎসাধীন। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ২৭ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৮ জন।

খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. শেখ সাদিয়া মনোয়ারা ঊষা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, শনিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা জেলা ও মহানগরীতে ৩৩৩ জনের নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে ১১৬ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়, যা মোট নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ৩৪ শতাংশ।
এদিকে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মেহেরপুরে ৩, কুষ্টিয়ায় ২ ও সাতক্ষীরায় একজন করোনায় মারা গেছেন।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

500FansLike
700FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles